প্রকৃতির রুদ্র মূর্তি, থামছে না বৃষ্টি, ধ্বংসলীলায় মৃত্যু মিছিল

প্রকৃতির রুদ্র মূর্তির সাক্ষী থাকছে উত্তর ভারত সহ দেশের একাধিক রাজ্য। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে একাধিক জায়গায়। গত দুই দিনে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৭ জনের…

Published By: Pritam Santra | Published On:
Advertisements

প্রকৃতির রুদ্র মূর্তির সাক্ষী থাকছে উত্তর ভারত সহ দেশের একাধিক রাজ্য। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে একাধিক জায়গায়। গত দুই দিনে সব মিলিয়ে প্রায় ৩৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার ভিডিও ছবি ইতিমধ্যে ভাইরাল। অবিরাম ভারী বৃষ্টির কারণে ফুঁসছে বহু নদী। ভেঙে গিয়েছে পাকা রাস্তা, সেতু। ধসে পড়ছে মাটি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি জানা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃতির মারে বিপর্যস্ত একাধিক রাজ্যের জন্য প্রার্থনা করছেন সাধারণ মানুষ। তৎপর রয়েছে প্রশাসন।

Advertisements

গত দু’দিনে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধস এবং বৃষ্টিজনিত অন্যান্য দুর্যোগের ফলে কমপক্ষে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে গত দুই দিনে হিমাচল প্রদেশে ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, এই রাজ্যটিকে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। এছাড়া পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় নয়জন, রাজস্থানে সাতজন এবং উত্তর প্রদেশে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। দিল্লিতে যমুনা সহ বেশ কয়েকটি নদীতে ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে জল।

Advertisements

ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা মোকাবিলায় উত্তর ভারতের চারটি রাজ্যে ৩৯ ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) পাঠানো হয়েছে। পাঞ্জাবে ১৪টি দল, হিমাচল প্রদেশে ১২টি দল, উত্তরাখণ্ডে ৮টি দল এবং হরিয়ানায় ৫টি দল পাঠানো হয়েছে। জম্মুতে ৭,০০০ এরও বেশি তীর্থযাত্রী আটকা পড়েছেন, বেশিরভাগই ভগবতীনগর বেস ক্যাম্পে এবং ৫,০০০ এরও বেশি তীর্থযাত্রী রামবন জেলায় চান্দেরকোট বেস ক্যাম্পে আটকা পড়েছেন।

Himachal pardesh rain

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী সিমলা-কালকা লাইনের রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত বলে জানা গিয়েছে। বারবার ভূমিধসের কারণে ট্র্যাকটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে । রাজ্য জুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সোমবার ও মঙ্গলবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, কুল্লুতে শ্রীখণ্ড মহাদেব যাত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ১০ ও ১১ জুলাই কুল্লু প্রশাসন দু’দিন জেলাব্যাপী ছুটি ঘোষণা করে। রাজ্য সরকার সমস্ত ফিল্ড অফিসারদের ছুটি বাতিল করে এবং তাদের অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সোমবার উনায় ১৭৫ মিলিমিটার, সোলানে ১৭০ মিলিমিটার, দাধৌতে ১৬০ মিলিমিটার, সাঙ্গরায় ১৫০ মিলিমিটার, রামপুরে ১৪৫ মিলিমিটার, সিমলায় ১৩৯ মিলিমিটার, নারকান্দায় ১৩২ মিলিমিটার, সুজনপুর তিরায় ১৩০ মিলিমিটার এবং কাসৌলিতে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

Advertisements